বোসবাবুদের বাড়ির ছেলে

পাখি দেখা ট্রিক : থেরাপিউটিক

মনে আছে ট্যারা ও মদন দুটি ভাই? দুজনারই বয়সের গাছ-নুড়ি নাই। অতএব লেগে থাকে বয়সজনিত ব্যাধি নানা। ওষুধের , ডাক্তারি ভিজিটের নামে ট্যারা ক্ষিপ্ত। মদনও সতত অতৃপ্ত; তবু ডক-চেম্বারে যেতে ইদানীং আর নাহি করে তানানানা! এ কি রহস্য-অমানিশা! আঁধারে পেঁদিয়ে ঢিল পাওয়া গেছে সমাধান-দিশা…  

মদন বোসের হাতে লাঠি।
বয়স না পশ্চাতে কাঠি!
মুহুমুহু কর্ণচাপাটি।

1

মরেই যেত বা একদিন,
বুড়ো হওয়া এতই কঠিন –
বিবর্ণ, বৃথা, রসহীন…

1-1

বেঁচে গেল শখ ছিল বলে
পাখি দেখা জলে-জঙ্গলে,
শহরেও – দোকানে-বাজারে।

2-1

তবে পাখি সর্বোপরি
দেখা যায় – আ’মরিমরি –
পাড়াতুতো ডক-চেম্বারে।

4

এ বয়সে কে বা এত পারে
ঘোরাঘুরি আদাড়ে-বাদাড়ে?
অতএব চেম্বারই বেস্ট।

5

ট্যারার ব্যাপার কিছু অন্য –
ব্রয়লার মুরগি ভিন্ন
পাখি নিয়ে নেই ইন্ট্রেস্ট।

6

(বলে রাখা ভাল এইখানে –
এক্ষেত্রে পাখি দেখা মানে
মদনীয় ডানাকাটা পাখি না।)

8

ফেরা যাক মদনের গল্পে –
(তার) পাখি-দেখা নতুন প্রকল্পের
ডানায় লেগেছে বায়ু দখিনা…

7

ভিজিট লাগায় দুই বেলা,
মিঠে জ্বালা লাঠির দেয়ালায়,
তেড়ে বাজে আয়ুর বেহালা।

10

ওদিকে ট্যারার ঘুড়ি হাত্তা।
বুড়ো হল, ফুরোল না সাধ তার –
কোনো পাখিই দিল না পাত্তা।

9

কাঁদে ট্যারা কুঁতিয়ে ককিয়ে।
পারে যদি শিখে নিক গিয়ে
গ্রেসফুলি বুড়োবার ছক।

11

বয়সরোগের এ চিকিচ্ছে –
যাক নদী বয়ে যত ইচ্ছে
থাকা চাই পাখি দেখা শখ।

12

“মাড়াব না ডাক্তারি রুট এ,
ওষুধপত্র ‘সব ঝুট হ্যায়!'”
এ জেদের এই পরিণাম।

13

ভাবেনি সরলমতি, ধিক!
সবেরই রয়েছে দুটি দিক।
ভিজিটের সাধে এত দাম!

14

বোসবিলাপ-কথা

কে জানে কে বোসেদের আরাধ্য দেবতা!
এত থাকতে বর দিল – বিলাপ-প্রিয়তা!
‘হায়-হায়’ রবে সুখে কাটে বারোমাস,
হঠাত হৃদয়ে জাগলো চোরা সন্ত্রাস।

বিলাপ করেন ট্যারা মদনের আগে,
‘ভুলিতে না পারি ভ্রাত, সদা মনে জাগে –
কি করিব? কোথা যাব? কি দিয়ে ঘি খাব?
বিলাপ-বিহনে দিন কেমনে বিতাব?’

(কেমন কুচুটে দেখো ট্যারা বোস! অহো!
বিলাপের ছাঁদে ভণে বিলাপ-বিরহ!
মদনের যুক্তিবোধ কিঞ্চিত দুর্বল,
অতএব শোকাচ্ছন্ন, শঙ্কা-টলোমল…)

মদন বিলাপ করে, ট্যারা বোস শোনে,
সে বিলাপে ওম দেয় শয়নে স্বপনে,
একদিন ফুটে গেল বিলাপের ছানা
‘য়াহু-য়াহু’ নেচে ওঠে ট্যারা ও মদনা।

বোবাডাক-নিশিডাক-কুডাক-কুস্বরে
বিলাপের ছানাগুলি ‘কাঁই-মাই’ করে.
কপালে কাজল-টিপ, ঠোঁটে দিয়ে চুমু
ট্যারা ও মদন তাহে করে ঘুমু-ঘুমু।

ব্যাধি-স্বপ্ন-হতাশ্বাস-সংশয়-গরল
নিত্য চষে স্বর্ণপ্রসূ বিলাপ-ফসল।
বুকে যার বিলাপের স্বয়ং প্রতিষ্ঠান,
সুখে কেঁদে মারা যাবে – বৃথা চেষ্টা ত্রাণ।

Untitled-2Untitled-1

বোসেদের নয়া দোস্ত

গ্রীষ্মের ছুটিতে, ট্যারা বোস সাবেক হতাশা হতে দিন-বারো ব্রেক নিয়ে গিরিপথে ট্রেক করে আজ।
মদনের – বহুকাল হল – শুধু গুটি গুটি সমতলে ঠেক মারা কাজ, ফেক কিছু উদ্বেগ বুকে, তবু
তারও আছে ছোট ঢিপি নস্টা‌লজীয়; তাতে চড়ে বারোমাস নানাবিধ আবেগে অসুখে উবু
হয়ে বসে থাকে, পরিচিত আত্মীয় বিপি আর চিনি সনে সুখেদুখে একাকী কাটায় ছুটি।
সহসা পাহাড় ফুঁড়ে ঝাঁকি মেরে কম্পপদে উঠি এল কে’বা সেই নব্য স্বজন !
সে কি ইডিওপ্যাথিকযোগে হ্যাট কোট পরিহিত ভবদীয় পারকিনসন?

tm07

আহা হেঁটে নিক ট্যারা বোস, হেসেখেলে, দুনিয়ার তাবৎ প্রান্তে।
বোসেদের নয়া দোস্ত শেষে যদি কোনোদিন সাধ করে তাকেও জানতে?

tm08

 

রিটায়ার্ড বোসভায়েরা

বোসভ্রাতাদ্বয় রিটায়ার্ড,
যেন এক ঢিলে মৃত দুটি পাখি।
হয়ত রিলিফই এটা (কেননা কাওয়ার্ড),
অথবা বোঝার ভুল,
অকালে ওভাররুল্‌ড্‌
তাই নতমস্তক, আনতপতাকী।

অর্থহীন, স্বাস্থ্যহীন, মিত্রহীন, বৃদ্ধপ্রায় দ্বৈত ওবেলিক্স,
বিষাদাগ্নি-দগ্ধান্তে মেলিবে কি জীর্ণ ডানা? যেমতি ফিনিক্স?

tm06

ভিসির উপর রাগ করে…

ট্যারা গিন্নী ঘুরে এল শান্তিনিকেতন,
পুজোর ছুটিতে।
ট্যাঁকসঙ্গী ট্যারা বোস মর্নিং-ওয়াকে।
ঘুরেফিরে অবশেষে রবীন্দ্র ভবন
পৌঁছে দুটিতে
খুঁজে পেল স্বর্ণচাকতি আগাছার ফাঁকে ।

গুড় গুড় গুড় – বোসবাড়িতে হোক কলরব

বোসেরা একটু ভীতু – কাছাখোলা,
বাই হেরিডিটি, কলরবপ্রিয় নয়,
একটু স্বার্থপর – বাইপোলার,
নোলা খুব, অথচ ক্রনিক বাযুরোগে
বোসেরা ভীষণ ভোগে।

তাই বুঝি আত্মকেন্দ্রিক
বোসেরা একটু ল্যাদা – অবৈপ্লবিক।

কে যেন মেরেছে কাকে, ছিঁড়েছে আঁচল;
দেশ জুড়ে হোক হোক কলরব ধ্বনি।
এদিকে মদন বোস – উদরে কল্লোল,
ট্যারা বোস থেকে থেকে বাথরুম-মুখী।

চাঁদ-তারা-ঘাস-ফুল পোঁছে কোনজন?
কান্ডারী হাতে লও ওষুধের লিস্ট।
বোসেদের বিপ্লব অক্সিমোরন –
থানকুনি, কালমেঘ, ইনো, নরফ্লক্স।

প্রতিবাদী বোসখুকি পোস্টার আঁকে;
(আসলে ডালিয়া খায়, সাবধানে থাকে।)
ইদানীং প্রায়শই কপাল চাপড়ে
করাঘাতে, একা একা গজগজ করে –

“কে বুঝি প্যাঁদালো কাকে পাঠিয়ে পেয়াদা!
ঘরভরা বাপজ্যাঠা! দেশভরা গাধা!”

001

জাগে নাথ জোছনারাতে

ট্যারা বোস তন্দ্রাহীন –
শয্যা ত্যাজি ওঠেন বারোবার।
বয়সে ব্ল্যাডার –
বহু ব্যবহৃত জকি জাঙ্গিয়ার
ঢিলা ইলাস্টিক যথা।

মদন বোসেরও নিশি
অনিদ্রায় কাটে অল্পাধিক।
ঘটিকাযন্ত্রের মৃদু টিক্
মুহূর্তগণন –
স্নায়ূপরি বিন্দু বিন্দু অম্লচ্যুতিহেন।

অতএব জাগে নাথ – জোছনারাতে,
সঙ্গে জাগে সারা পাড়া, পরিবার, কুতুয়া ও মেনি।

tm02 tm03

বোসবাবুদের বাড়ির ছেলে

বংপলাশীর সং দুটি ভাই,
বোসফ্যামিলির ধেড়ে;
যাবৎ বিষয় মত পাড়া চাই
– গেঞ্জি ভাঁজ ছেড়ে।

003

গেঞ্জি ভাঁজ! থাগ্গে আজ! বল্লে যদি কত্তে হয়?